বৃহত্তর সিলেটে অনাহারে তিন লক্ষ দিন মুজুর “পাথর কোয়ারী বন্ধে “

শেয়ার করুন

পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকেই আল্লাহ্পাক মানুষ পৃথিবীতে পাঠানোর আগে তাদের রিজেকের ব্যবস্থা করে দেন।
বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে মানুষের কর্মসংস্থান ও রিজেকের জন্য আল্লাহ্পাক পাথরমহাল, বালুমহাল,জলমহাল ও আরো বিভিন্ন অনেক কিছু দিয়ে রেখেছেন।যেখানে সিলেট অঞ্চলে কর্মসংস্থানের জন্য বড় ধরণের শিল্প কারখানা,গার্মেন্টস-ফ্যাক্টরী নেই, যেখানে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।সেখানে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হয় একমাত্র পাথরমহল ও বালুমহল থেকে। বর্তমানে পরিবেশের দোহাই দিয়ে একটি বড় ইনপুট ব্যবসায়ী গ্রুপ সিলেটের পাথর-বালুমহল হতে পাথর-বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।
সিলেটের পাথর-বালুমহল বন্ধ হলে তারা রাতারাতি শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যাবে। অন্য দিকে সিলেট অঞ্চলের শ্রমিকরা অনাহারে দিন অতিবাহিত করবে। সিলেটের সব গুলো পাথর কোয়ারি বন্ধ আছে। যার ফলে সবচেয়ে কষ্টে দিন চলেছে এই অঞ্চলের মানুষের।

প্রিয় সিলেটবাসী, ও জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি বর্গগণ। একবার ভাবুন তো,যেখানে আমাদের দেশের রাজধানী ঢাকা তে দেশের প্রত্যেকটি জেলা থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টন ওজন পরিমাণ পাথর,বালু,রড,সিমেন্ট কতো কিছু যেয়ে একত্রিত হয়ে ঢাকার বুকের ওপরে উঠছে।
অথচ ঢাকা শহরে আর সেই পরিমাণ জায়গা খালি নেই,তারপরেও অনবরত ১০/১৫/২০/৩০ তলা ভবন,ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন পাহাড় পরিমাণ সমান ইমারত নির্মাণ হচ্ছে।

সেখানে যদি পরিবেশবাদিরা আমাদের প্রিয় ঢাকা শহরকে নিয়ে একটু চিন্তা করেন,তাহলে ঢাকা শহরের প্রায় অর্ধেকের বেশি ইমারতই থাকার কথা না।ঢাকা শহর এবং ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের সুস্থ পরিবেশে রাখতে হলে,বর্তমান অবস্থার প্রায় অর্ধেকটাই কি বদলে ফেলা উচিত না??
যদি আসলেই আমরা একটি সুস্থ পরিবেশে বাচঁতে চাই,তাহলে সবার আগে ঢাকা কি রক্ষা করার কথা ভাববার বিষয় নয় ?

বাচ্চারা শুয়ে আছে মা মাথায় করে পাথর উত্তলন করছে
সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারীগুলো থেকে প্রায় ৩০/৪০ বছর যাবত ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। যা আল্লাহর দেওয়া খনিজ সম্পদ। যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে,এবং পাশের দেশ ভারত থেকে বর্ষার ঢলে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ পাথর আমাদের দেশে নেমে আসে। ৩০/৪০ বছর যাবত পাথর কোয়ারীগুলো থেকে যে পরিমাণ পাথর উত্তোলন হয়েছে সে হিসেব করলে পাথর কোয়ারী অঞ্চলগুলো সাগর হয়ে যাওয়ার কথা।কিন্তু কেনো এতো গভীর হলো না!

তার একমাত্র কারণ আল্লাহ্ এর দেওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তিনি নিজেই এভাবে তৈরী করে দিয়েছেন। কোয়ারী অঞ্চলগুলোতে গেলে এখনও দেখা যায় যে, সেখানে সেরকম ভাবে কোনো গভীরতা নেই।

ঢাকা,চট্টগ্রাম,নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আমাদের সিলেট অঞ্চলে একটিও পোশাক কারখানা,ফ্যাক্টরী নেই যেখানে কাজ করে মানুষজন তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। তাই সিলেট অঞ্চলের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং বিদেশী পাথর ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে,সাধারণ শ্রমিকদের কথা ভেবে কোয়ারীগুলো চালু রাখার আবেদন জানাচ্ছি।

আমাদের সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে,আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়,এমপি মহোদয়গণের মাধ্যমে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিকট সদয় আবেদন জানাতে চাই যে, সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারীগুলো থেকে অন্তত ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের ব্যবস্থা করে দিয়ে কোটি মানুষের কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করার উপায় করে দিতে আপনার সদয় কামনায়। >>বৃহত্তরসিলেটের জনতা

Related posts

Leave a Comment